Friday, January 9, 2026
HomeBreaking Newsকেন্দ্রের নতুন আইন প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক – মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা আক্রমণ, ‘ব্ল্যাক ডে’...

কেন্দ্রের নতুন আইন প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক – মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা আক্রমণ, ‘ব্ল্যাক ডে’ ঘোষণা

বাবান দাশের রিপোর্টবনগাঁ, উত্তর ২৪ পরগনা

কেন্দ্রের নতুন আইন প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক – মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা আক্রমণ, ‘ব্ল্যাক ডে’ ঘোষণা

আজ সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রস্তাব পেশ করেছেন। এই আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে—ভারতের কোনো এমপি, এমএলএ বা জনপ্রতিনিধি যদি ৩০ দিনের বেশি সময় কারাভোগ করেন, তবে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর সাংবিধানিক পদ থেকে পদচ্যুত হবেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও অপরাধমুক্ত গণতন্ত্র গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। সরকার দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই জনগণের অভিযোগ ছিল যে, দোষী সাব্যস্ত বা গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিরা জেল খাটলেও পদে বহাল থাকেন। সেই অভিযোগ খণ্ডন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে এই প্রস্তাব ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ তাঁর সরকারি ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে এই দিনটিকে ‘ব্ল্যাক ডে’ ঘোষণা করেছেন। তিনি ওই পোস্টে কটাক্ষ করে লিখেছেন, “এটি গণতন্ত্রকে কালিমালিপ্ত করার এক কালো আইন। বিরোধী রাজনীতিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য ভয় দেখানো হচ্ছে।”

 

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিরোধী নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠিয়ে সাংবিধানিক পদচ্যুত করার পরিকল্পনা চলছে। তাঁর মতে, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার একতরফা হাতিয়ার।

 

অন্যদিকে, বিজেপি শিবির জানিয়েছে, এই আইন গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। তাঁদের মতে, অপরাধীরা আর কোনোভাবেই আইনসভার অংশ হতে পারবেন না, ফলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার পরিবেশ তৈরি হবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন কার্যকর হলে তা নিঃসন্দেহে বড়সড় প্রভাব ফেলবে। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা বাড়তে পারে।রাজ্যে ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেছে। বনগাঁ ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল কর্মীরা কালো ব্যাজ পরে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে অংশ নেন।এই বিল সংসদে কতটা সমর্থন পায় এবং শেষ পর্যন্ত তা আইন রূপে কার্যকর হয় কি না, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular