দিল্লির রেড ফোর্টে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ: আতঙ্কে রাজধানী
গতকাল, সোমবার (১০ নভেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে দিল্লির ঐতিহাসিক রেড ফোর্ট মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল রাজধানী। একটি সাদা হুন্ডাই i20 গাড়ি (নম্বর HR26CE7674) হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়, মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে পুড়ে যায় চারপাশের গাড়ি ও রিকশা।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই বিস্ফোরণে ৮ জন নিহত ও প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তদন্তে নামল দিল্লি পুলিশ ও এনআইএ
দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেছে এবং UAPA ও Explosives Act-এর আওতায় মামলা দায়ের করেছে।
তদন্তে যোগ দিয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) এবং স্পেশাল সেল।
CCTV ফুটেজে দেখা গেছে, একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিস্ফোরণের প্রায় তিন ঘণ্টা আগে গাড়িটি সেই স্থানে পার্ক করে যায়।
তদন্তে জানা গেছে, গাড়িটি সম্ভবত ফরিদাবাদে সক্রিয় একটি সন্ত্রাসী মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, যেখান থেকে সম্প্রতি প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল।

সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা না দুর্ঘটনা?
প্রথমিক তদন্তে বিস্ফোরণটি আইইডি (Improvised Explosive Device) ব্যবহারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে এটি আত্মঘাতী হামলা না দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ — তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাড়ির ভেতরে এক ব্যক্তির দেহাংশ পাওয়া গেছে, যা আত্মঘাতী হামলার সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করছে।
কেন এই স্থান গুরুত্বপূর্ণ
রেড ফোর্ট এলাকা শুধুমাত্র ঐতিহাসিক নয়, এটি একটি উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চল, যেখানে প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক ঘুরতে আসেন।
এই এলাকায় বিস্ফোরণ হওয়া মানেই জাতীয় নিরাপত্তার বড় হুমকি — এমনটাই মত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের।

দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার
বিস্ফোরণের পর দিল্লি, রাজস্থান, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান, মেট্রো স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও বিমানবন্দরে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

উপসংহার
রেড ফোর্ট বিস্ফোরণ শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি ভারতের রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।
তদন্ত চললেও সাধারণ নাগরিকদের এখন সতর্ক থাকা জরুরি — বিশেষ করে ভিড়যুক্ত জায়গায়।
দেশবাসী এখন চায় দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।

