Friday, January 9, 2026
HomeEntertainmentনেপালে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি : তরুণদের বিক্ষোভে অস্থির রাজপথ

নেপালে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি : তরুণদের বিক্ষোভে অস্থির রাজপথ

নেপালে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি : তরুণদের বিক্ষোভে অস্থির রাজপথ

নেপালে পরিস্থিতি ক্রমেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে। রাস্তায় নেমে এসেছে তরুণ প্রজন্ম—কেউ হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, কেউ মশাল নিয়ে। ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২০ জন, আহত হয়েছেন শত শত মানুষ। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কে.পি. শর্মা ওলি। তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না, বরং প্রতিদিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা কি মূল কারণ?

প্রশ্ন উঠছে—শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার কারণেই কি এতটা অশান্তি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা অনেক দিন ধরেই জমছিল। তরুণদের ক্ষোভের মূল ছিল দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক পরিবারতন্ত্র। ‘Nepo Kid’ নামে সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেন থেকে শুরু করে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি—সব মিলিয়ে জনমনে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছিল অনেক আগে থেকেই।

বহিরাগত শক্তির প্রভাবের অভিযোগ

অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের পাশাপাশি নতুন করে সামনে এসেছে বহিরাগত শক্তির প্রভাবের প্রশ্ন। নেপাল দীর্ঘদিন ধরেই চিন এবং আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

  • ওলি বরাবরই চিনপন্থী। ক্ষমতায় এসে প্রথম বিদেশ সফর করেছিলেন বেজিংয়ে, যুক্ত হয়েছিলেন বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে। বিনিময়ে আর্থিক সাহায্য পেয়েছিল ঋণভারাক্রান্ত নেপাল।

  • অপরদিকে, আমেরিকাও নেপালে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছে। অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের নামে তারা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

ফলে দুই পরাশক্তির টানাপোড়েন নেপালের ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও উস্কে দিয়েছে বলেই অনেকে মনে করছেন।

প্রতিবেশী দেশের ছায়া

২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশে যে অভ্যুত্থানমূলক বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল, নেপালের ঘটনাপ্রবাহ অনেকটাই তার পুনরাবৃত্তি। তখনও তরুণদের নেতৃত্বে রাতারাতি ক্ষমতার পালাবদল হয়েছিল। এবার নেপালও একই রাস্তায় হাঁটছে বলেই আশঙ্কা।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দেশজুড়ে ভয় এবং আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ওলি পদত্যাগ করার পর নতুন সরকার কীভাবে গঠিত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য দরকার একটি দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব, যা বহিরাগত প্রভাব থেকে স্বাধীন থেকে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

নেপালের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি শুধু সীমান্তের ওপারেই সীমাবদ্ধ নয়, তার আঁচ পৌঁছচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলিতেও। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব কী হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular