পশ্চিমবঙ্গের কৃষিক্ষেত্রে এক বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতর জানিয়েছে, আগামী তিন বছরের মধ্যে ৬০,০০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা (মেইজ) চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো — রাজ্যের পশু, পোল্ট্রি এবং মাছের খাদ্যের (feed) ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা এবং বাইরের রাজ্যের উপর নির্ভরতা কমানো। বর্তমানে রাজ্যের অধিকাংশ ফিড শিল্পকেই ভুট্টা আমদানি করতে হয়, ফলে খরচ ও সময় দুই-ই বৃদ্ধি পায়।

কৃষিতে নতুন দিশা
রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানশিল্প মন্ত্রী অরূপ রায় সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানান, “আগামী তিন বছরে ভুট্টা চাষের আয়তন ৬০,০০০ হেক্টর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে, যাতে রাজ্যের পশুচারা ও মাছের খাদ্য চাহিদা পূরণ করা যায়।”
তিনি আরও জানান, কৃষিক্ষেত্রে এখন প্রায় ৭০ শতাংশ নারী কর্মরত, এবং তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই নতুন কৃষি পরিকল্পনাকে আরও সাফল্যমণ্ডিত করবে।

সম্ভাবনা ও সুবিধা
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে—
- রাজ্যে ভুট্টা আমদানির প্রয়োজন কমে যাবে, ফলে অর্থ সাশ্রয় হবে।
-
চাষিদের আয় বাড়বে, কারণ নতুন জমি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
-
নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
-
ফিড, প্রক্রিয়াকরণ ও পরিবহন শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

চ্যালেঞ্জ
তবে ভুট্টা উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের অবকাঠামো তৈরি করাও জরুরি। চাষ বাড়লেও যদি পর্যাপ্ত ফিড ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট না থাকে, তাহলে চাষিরা ন্যায্য দাম পাবেন না।
উপসংহার
ভুট্টা চাষের এই সম্প্রসারণ পশ্চিমবঙ্গের কৃষিক্ষেত্রের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে। কৃষক, নারী উদ্যোক্তা এবং খাদ্যশিল্প—সব ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের এই উদ্যোগ কতটা দ্রুত এবং সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।

