অরুণাচল-ই ভারতের অংশ, চিনের দাদাগিরি বরদাস্ত নয় — কড়া বার্তা ভারতের বিদেশমন্ত্রকের

তারিখ: ১৪ মে, ২০২৫ | নয়াদিল্লি|Dcn নিউজ | বাবন দাসের রিপোর্ট-👇👇👇
ভারত ও চিনের মধ্যে অরুণাচল প্রদেশ ঘিরে টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আরও এক ধাপ উত্তেজনার দিকে এগিয়েছে। চিন ফের একবার অরুণাচল প্রদেশের একাধিক জায়গার নাম বদলানোর চেষ্টা চালিয়েছে। ভারতের কূটনৈতিক মহলে তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কড়া ভাষায় বলেন,
“আমরা লক্ষ্য করেছি, চিন আমাদের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের কিছু স্থানের নাম বদলের নিরর্থক ও অযৌক্তিক চেষ্টা করে চলেছে। আমরা আমাদের নীতিগত অবস্থান অনুযায়ী এই ধরনের প্রচেষ্টাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করি।”
ভারতের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। নাম বদলের মাধ্যমে বাস্তব বদলানো সম্ভব নয়।
চিনকে পাল্টা জবাব: এক্স হ্যান্ডল ব্লক
এই ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। চিনের সরকারি সংবাদসংস্থার এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডল ভারতে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে যে, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে কোনও আপস নয়।
প্রেক্ষাপট: অপারেশন কেল্লা ও উত্তরের উদ্বেগ
একদিকে যখন ভারত ‘অপারেশন কেল্লা’ চালিয়ে সীমান্তে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালাচ্ছে, তখন অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চিনের আগ্রাসন নতুন করে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানকেও সীমান্তে কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। ‘কাশ্মীর ইসলামাবাদের গলার শিরা’ বলে মন্তব্য করা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও ভারতের শক্তি টের পেয়েছেন।
বিশ্লেষণ: চিনের কৌশলগত চাল ও ভারতের জবাবদিহি
চিনের এমন আচরণ নতুন নয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে অরুণাচলকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে দাবি করে আসছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে গুগল ম্যাপ, ইউনেস্কো ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও এমন দাবি জানায়। তবে ভারতের বর্তমান অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ় এবং প্রতিক্রিয়াশীল।
শেষ কথা:
চিনের কৃত্রিম নামকরণ, আন্তর্জাতিক স্তরে প্রোপাগান্ডা বা সাইবার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার— কোনো কিছুই অরুণাচল প্রদেশের ভারতীয় পরিচয় পাল্টাতে পারবে না। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট— সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনও আপস নয়।

