প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৫
প্রতিবেদন: বাবণ দাস | DCN NEWS প্রতিনিধি
“কেউ ‘লাস্ট বেঞ্চার’ নয়”—এই কথাটি শুধু সিনেমার সংলাপ নয়, হয়ে উঠেছে শিক্ষার নয়া দর্শন।
মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘Sthanarthi Sreekuttan’ (স্থানার্থী শ্রীকুট্টন) নতুন আলো ছড়াচ্ছে দেশের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে। ছবির শেষ দৃশ্যে যেভাবে ছাত্রদের বেঞ্চ U-আকৃতিতে সাজানো ছিল, সেই ভাবনাই বদলে দিচ্ছে স্কুলশিক্ষার অভ্যন্তরীণ মানসিকতা।

আজকের দিনে, যেখানে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, সমান মর্যাদা ও ইনক্লুসিভ এডুকেশনের কথা বারবার উঠছে, সেখানে এই দৃশ্য হয়ে উঠেছে এক শিক্ষাবিপ্লবের প্রতীক।
কেরল থেকে শুরু, গোটা দেশের অনুপ্রেরণা
ভালাকোমের রামবিলাসম হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল-সহ কেরলের অন্তত ৮টি স্কুল ইতিমধ্যেই বেঞ্চের সাজ ও শ্রেণিকক্ষের গঠন বদলেছে।
এই পদক্ষেপে নেই প্রথম বেঞ্চ, শেষ বেঞ্চ—
আছে সমান চোখে দেখা, সমান গুরুত্ব দেওয়া।
শিক্ষক দাঁড়িয়ে ক্লাস নিচ্ছেন মাঝখানে, আর চারদিকে অর্ধবৃত্তাকারে বসে ছাত্রছাত্রীরা—
যেখানে কেউ পিছিয়ে পড়ছে না মানসিকতায় বা মনোযোগে।
সিনেমার প্রভাব বাস্তবতাকে বদলাচ্ছে
পরিচালক বিনেশ বিশ্বনাথ জানিয়েছেন, তাঁর ছবিটি দেখে পঞ্জাবের একটি স্কুলেও এই নিয়ম চালু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন—
“ভাবিনি একটি দৃশ্য এমন প্রতিক্রিয়া আনবে।
কিন্তু এটা আমাদের নয়, প্রাথমিক শিক্ষার পুরনো ভাবনারই পুনর্জন্ম।”
সত্যিই, ১৯৯৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের জো প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প এই ধরণের উদ্যোগের কথা বলেছিল।
তবে স্থানার্থী শ্রীকুট্টন আবার এই ভাবনার ভিত জাগিয়ে তুলেছে বাস্তবে।
আজ যেখানে শিক্ষা হয়ে উঠছে র্যাঙ্ক, মার্কশিট, বা বেঞ্চের ভিত্তিতে মূল্যায়নের জায়গা—
সেখানে এই সিনেমা মনে করিয়ে দেয়,
মানবিক মূল্যবোধই শিক্ষার মূলে থাকা উচিত।
“লাস্ট বেঞ্চার” বলে কেউ খারাপ নয়, “ফার্স্ট বেঞ্চার” বলেও কেউ সেরা নয়—
শ্রেণিকক্ষে বৈষম্য নয়, সমতা হোক নতুন মানদণ্ড।
DCN ক্যামেরার সামনে থেকে বলছি—
এই ভাবনা ছড়িয়ে পড়ুক বাংলা, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মিজোরাম থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত।
শিক্ষা যেন হয় অন্তর্ভুক্তিমূলক, শ্রদ্ধাবোধসম্পন্ন এবং মানসিক সুস্থতার সহায়ক।
স্থান পরিবর্ত
নের নামেই শুরু হোক চেতনার পরিবর্তন।

