DCN | রিপোর্ট: বাবণ দাস
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫
ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা নয়, এটি ধীরে ধীরে সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর পড়ে। কিন্তু এখন এক গবেষণায় উঠে এসেছে আরও বড় সতর্কবার্তা। টাইপ ২ ডায়াবেটিসের একটি বহুল ব্যবহৃত ওষুধ গ্লিপিজাইড (Glipizide) নাকি বাড়িয়ে দিচ্ছে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মতো প্রাণঘাতী হৃদরোগের ঝুঁকি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল ব্রিগহাম হাসপাতালের গবেষকরা প্রায় ৫০,০০০ টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সামনে এনেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা গ্লিপিজাইড ব্যবহার করছেন, তাদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা এবং মৃত্যুর হার অনেকটাই বেশি।
কী বলছে গবেষণা?
গবেষণায় সালফোনিলিউরিয়া (Sulfonylurea) শ্রেণির তিনটি ওষুধ — গ্লিপিজাইড, গ্লাইমেপিরাইড এবং গ্লাইবারাইড — এর ব্যবহারকারীদের মধ্যে ফলাফল তুলনা করা হয়। পাশাপাশি ডিপিপি-৪ ইনহিবিটর (DPP-4i) ওষুধ ব্যবহারকারীদের ফলাফলও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
👉 গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৪৮,১৬৫ জন টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীকে ১০টি গবেষণা কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল।
👉 দেখা যায়, গ্লিপিজাইড ব্যবহারকারীদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি DPP-4i ব্যবহারকারীদের তুলনায় প্রায় ১৩% বেশি।
👉 অন্যদিকে, গ্লাইমেপিরাইড ও গ্লাইবারাইড তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ, তবে এখনও হৃদস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।কেন বাড়ছে এই ঝুঁকি?টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যেই সাধারণত করোনারি ইস্কেমিয়া, স্ট্রোক এবং হার্ট ফেইলিউর-এর ঝুঁকি বেশি থাকে। এর সঙ্গে যদি কোনো ওষুধ নিজেই হৃদযন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে ঝুঁকির মাত্রা ভয়ানকভাবে বেড়ে যেতে পারে।গবেষণার সহলেখক ও বিডব্লিউএইচ এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের গবেষক আলেকজান্ডার টারচিন বলেন “সালফোনিলিউরিয়া ওষুধগুলি যদিও সাশ্রয়ী এবং জনপ্রিয়, তবে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধিতে এর সম্ভাব্য ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। বিশেষত গ্লিপিজাইড সম্পর্কে আমাদের আরও সচেতন হওয়া দরকার।”
রোগীদের জন্য সতর্কবার্তা:এই গবেষণার উপর ভিত্তি করে যাঁরা গ্লিপিজাইড নিচ্ছেন, তাঁদের নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ বন্ধ না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রত্যেক রোগীর দেহে প্রতিক্রিয়া আলাদা এবং বিকল্প ওষুধ বেছে নেওয়া বা ডোজ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কেবল চিকিৎসকই নিতে পারেন।
টাইপ ২ ডায়াবেটিস এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। রোগ নিয়ন্ত্রণে ওষুধের যেমন ভূমিকা আছে, তেমনই আছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও। গ্লিপিজাইডের মতো ওষুধ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে — এই তথ্য যদি আরও বৃহৎ গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে ডায়াবেটিস চিকিৎসার পদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে।
তাই প্রতিটি ডায়াবেটিস রোগীকে ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখন থেকেই আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি একটি গবেষণার উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত। কোনও চিকিৎসা পরামর্শ নয়। ওষুধ সংক্রান্ত যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

