তুলসীর মালা পরায় নিষেধাজ্ঞা জারি প্রধান শিক্ষিকার?
বারাসাত নবপল্লী যোগেন্দ্রনাথ বালিকা বিদ্যামন্দিরে আজ তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রানী দত্ত চক্রবর্তী একটি ফতোয়া জারি করে জানিয়েছেন — “তুলসীর মালা পড়ে স্কুলে আসা যাবে না।”

বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে নিজে হাতে ছাত্রীদের গেট এন্ট্রির সময় তদারকি করছেন তিনি, কেউ তুলসীর মালা পড়ে আসছে কি না, সে বিষয়টি খুঁটিয়ে নজর রাখছেন।
শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও পাঠানো হয়েছে এই বার্তা — তুলসীর মালা নিষিদ্ধ।
সংবাদমাধ্যমে মুখ বন্ধ প্রধান শিক্ষিকা
যখন সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান এই নির্দেশের কারণ, তখন তিনি একটিও শব্দ না বলে মুখ ফিরিয়ে নেন।
সভাপতির ধমক অন-ক্যামেরা!
স্কুলের সভাপতি চম্পক দাস এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। সংবাদমাধ্যমের সামনে সরাসরি ফোনে ধমক দেন প্রধান শিক্ষিকাকে। বলেন —
> “এই সিদ্ধান্ত ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত। স্কুলে পড়াশোনার ক্ষতি হয় না তুলসীর মালা পড়ে আসলে। এটি অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক নির্দেশ।”
অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
সাধারণ অভিভাবকরাও সভাপতি চম্পক দাসের সুরেই একমত। তাঁরা বলছেন,
“তুলসী মালা পরা একটি ধর্মীয় বিশ্বাস। তা কারও ওপর জোর করে নিষিদ্ধ করার অধিকার স্কুলের নেই।”
পাল্টা যুক্তি প্রধান শিক্ষিকার
শেষমেশ চাপের মুখে পড়ে প্রধান শিক্ষিকা বলেন,
“একদিন একটি তুলসীর মালা মাটিতে পড়ে গিয়েছিল, পায়ে লেগে যেতে পারত — তাই নিষেধ করেছি।”
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই যুক্তি কি আদৌ গ্রহণযোগ্য? সাধারণ মানুষ থেকে অভিভাবক মহলে এই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে প্রধান শিক্ষিকার কণ্ঠে নির্দেশমূলক অডিও ক্লিপ। বিতর্কে আগুন ছড়িয়েছে তাতেই।
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় চিহ্ন নিয়ে এমন বিতর্ক বিরল নয়। তবে প্রশ্ন থেকে যায় — ব্যক্তিগত বিশ্বাস কি শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে? নাকি এটি শুধুই একমাত্রি
ক সিদ্ধান্তের ফল?
DCN নিউস বনগাঁ

