যুদ্ধসরঞ্জাম দিতে কেন এত দেরি? স্পষ্ট প্রশ্ন বায়ুসেনা প্রধানের – “অপেক্ষা নয়, এখনই চাই প্রস্তুতি”
Dcn ওয়েবসাইট রিপোর্ট | প্রতিবেদক: বাবণ দাস: নয়াদিল্লি:
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যে যখন দেশজুড়ে বায়ুসেনার প্রশংসা, ঠিক সেই সময়েই দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুললেন ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং। সরাসরি প্রশ্ন তাঁর — “কেন এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা সময়মতো পূরণ করা সম্ভব নয়?”
দিল্লিতে একটি বণিকসভার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন,
“আকাশকে শক্তিশালী করতে হবে। কোনও অভিযানই সাফল্য পাবে না যদি বায়ুসেনা যথেষ্ট প্রস্তুত না থাকে। শুধু উৎপাদন নয়, আমাদের নিজস্ব ডিজাইন ক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।”
প্রতিশ্রুতি, কিন্তু সময়মতো ডেলিভারি নেই!
এয়ার মার্শালের মতে, প্রতিটি প্রকল্পেই দেরি হচ্ছে। এমনকি এমনও হয়, চুক্তি স্বাক্ষরের সময়ই জানা থাকে, সময়মতো ডেলিভারি হবে না – তবুও চুক্তি করা হয়।
উদাহরণ:
তেজস Mk1A যুদ্ধবিমান:
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে HAL-এর সঙ্গে ৪৮,০০০ কোটি টাকার চুক্তি
মোট অর্ডার: ৮৩টি বিমান
বর্তমান অবস্থা: একটিও সরবরাহ হয়নি
নির্ধারিত ডেলিভারি শুরুর সময়: মার্চ ২০২৪
তেজস Mk2: এখনও প্রোটোটাইপ তৈরি হয়নি
স্টেলথ এএমসিএ: নেই কোনও দৃশ্যমান অগ্রগটি
“ভবিষ্যতের জন্য নয়, যুদ্ধ প্রস্তুতি চাই এখনই”
এয়ার মার্শাল বলেন,
“১০ বছর পর উৎপাদন বাড়বে ঠিকই, কিন্তু আজ যা প্রয়োজন, তা আজই দরকার। যুদ্ধ জিততে হলে বাহিনীকে শক্তিশালী করতেই হবে। সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।”
বলিউড ডায়লগে বার্তা
নিজের বক্তব্যে বলিউড অভিনেতা সলমনের বিখ্যাত সংলাপও উদ্ধৃত করেন তিনি:
“একবার জো হমনে কমিট কিয়া হ্যাঁয়, ফির ম্যাঁয় আপনে আপ কি ভি নেহি শুনতা।”
এই মন্তব্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারকদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি যে তিনি কৌশলে তুলে ধরেছেন, তা স্পষ্ট।
Dcn ওয়েবসাইটরিপোর্ট: প্রতিবেদন: বাবণ দাস। 📅 তারিখ: ৩০ মে, ২০২৫

