সন্তান হারানোর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা সামনে আনলেন ইউটিউবার সোহিনী গঙ্গোপাধ্যায় | চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে উঠল প্রশ্ন
DCN সংবাদ ডেস্ক | ৩রা সেপ্টেম্বর ২০২৫
কলকাতা: জনপ্রিয় ইউটিউবার সোহিনী গঙ্গোপাধ্যায় সম্প্রতি নিজের জীবনের এক গভীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি সামনে এনেছেন। এক ঘণ্টার দীর্ঘ ভিডিওর মাধ্যমে সোহিনী জানিয়েছেন, কীভাবে চিকিৎসার গাফিলতির কারণে তিনি এবং তাঁর পরিবার তাঁদের অনাগত সন্তানকে হারিয়েছেন।
সোহিনী জানান, ২২শে আগস্ট সকালে তিনি ও তাঁর স্বামী প্রথম বুঝতে পারেন যে গর্ভস্থ শিশু আর আগের মতো নড়াচড়া করছে না। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা তাঁদের চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চিকিৎসক তাঁদের হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। সেখানে USG পরীক্ষায় ধরা পড়ে, শিশুর গলায় নাড়ি (umbilical cord) জড়িয়ে রয়েছে — যা একটি জটিল এবং বিপজ্জনক অবস্থা।
পরিবারের অভিযোগ:
পরিস্থিতির জটিলতা বোঝার পরেও চিকিৎসক ওই সময় জরুরি অস্ত্রোপচার না করে, সোহিনীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে অন্যত্র ক্লাস নিতে চলে যান। অভিযোগ, ভর্তি থাকা অবস্থাতেও সোহিনীর জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা বা অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়নি। দুপুর ১২টা নাগাদ সোহিনী শেষবার গর্ভস্থ সন্তানের নড়াচড়া অনুভব করেন। এরপর থেকে তিনি ও তাঁর স্বামী বারবার চিকিৎসা সহায়তা চাইলেও সাড়া মেলেনি।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, চিকিৎসক প্রায় দুপুর ২টোর সময় হাসপাতলে ফিরে আসেন, কিন্তু তখন আর শিশুর কোনো নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়নি। চিকিৎসক তখন জানান, গর্ভেই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আর কিছুই করার নেই। এমনকি এরপর সোহিনীকে দেখতে এসেও তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ।
চিকিৎসকের বক্তব্য:
অন্যদিকে, চিকিৎসক সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, সোহিনীর প্রেগনেন্সি হাই রিস্ক ছিল এবং তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ছিল। কিন্তু সোহিনীর স্বামী সেই দাবিকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি সমস্ত প্রেসক্রিপশন সামনে এনে জানিয়েছেন, কোথাও সোহিনীর উচ্চ রক্তচাপ বা জটিলতার উল্লেখ নেই।
প্রশ্ন উঠছে:
-
যদি শিশুর অবস্থা সংকটজনক ছিল, তবে কেন অবিলম্বে অস্ত্রোপচার করা হয়নি?
-
কেন একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসক বাইরে ক্লাস করাতে গেলেন?
-
কেন হাসপাতাল যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি?
সোহিনী ভিডিওতে বলেন, “আজও আমি বুঝে উঠতে পারছি না, আমার ছেলেকে আমি কোলে নিতে পারলাম না শুধুমাত্র গাফিলতির জন্য। এটা দুর্ঘটনা নয়, এটা অন্যায়।”
এই ঘটনা সামনে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকদের দায়িত্ব এবং মানবিকতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
[DCN প্রতিবেদন | বিস্তারিত খবরের জন্য আমাদের সঙ্গেই থাকুন]

