DCN NEWS | BABAN DAS REPORTস্বাস্থ্যের কারণেই পদত্যাগ, আচমকা সিদ্ধান্তে চমকে উঠল দেশ — উপরাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন জগদীপ ধনখড
২১ জুলাই, ২০২৫ -ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় আচমকা পদত্যাগ করলেন। সোমবার রাতেই তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠি পাঠিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। ধনখড় তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন, বিশেষ করে গত মার্চে যখন তিনি বুকে ব্যথা নিয়ে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সে (AIIMS) ভর্তি হন। সেখানে তাঁকে সিসিইউ-তে রেখে চিকিৎসা করা হয়।
পদত্যাগপত্রে ধনখড় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীপরিষদ এবং দেশের সাংসদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অসাধারণ সহযোগিতা ও সহানুভূতি পেয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি জানান, উপরাষ্ট্রপতি থাকাকালীন ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন তিনি খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং এই উন্নয়নের যাত্রায় নিজেকে অংশীদার করতে পেরে তিনি গর্বিত।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের অগস্ট মাসে মার্গারেট আলভাকে ৩৪৬ ভোটে হারিয়ে উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন জগদীপ ধনখড়। তাঁর রাজনীতির যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে জনতা দল থেকে। রাজস্থানের ঝুনঝুনু লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে তিনি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হন ১৯৯০ সালে। পরবর্তীতে রাজ্য রাজনীতিতেও সক্রিয় হন এবং ২০০৩ সালে বিজেপি-তে যোগ দেন। ২০১৯ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিযুক্ত হন। এই সময়েই নবান্ন ও রাজভবনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। রাজ্য সরকার ও ধনখড়ের মধ্যে প্রায়শই টানাপোড়েন চলত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে।
তবে সোমবার সন্ধ্যাবেলাতেও রাজ্যসভার অধিবেশন পরিচালনা করতে দেখা যায় ধনখড়কে। তারপর রাতেই হঠাৎ ইস্তফার সিদ্ধান্ত জানিয়ে রাজনীতি মহলে বিস্ময় সৃষ্টি করেন তিনি। তাঁর এই পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে— শুধুই কি স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো অজানা চাপ বা কৌশল? বিরোধী দলগুলির একাংশ ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে— আচমকা এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে সরকারের কোনও চাপ কাজ করেছে কি না। অনেকের মতে, দিল্লির ক্ষমতার অন্দরমহলে কোনও বড় রদবদলের ইঙ্গিতও বহন করছে এই পদত্যাগ।
ধনখড়ের বিদায়ের পর এখন বড় প্রশ্ন, কে হবেন ভারতের পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি? শাসক এবং বিরোধী— উভয় শিবিরেই চলছে জল্পনা। নাম উঠছে একাধিক প্রবীণ নেতার, এমনকি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও আমলাদেরও।
সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক নাটকীয়তার মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলির প্রতি জনগণের আস্থা এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা কোন পথে যাবে— সেটাই এখন দেখার বিষয়।
DCN NEWS | BABAN DAS REPORTআপনার খবর, আপনার ভাষায় — সত্য ও সাহসের সাথে।


