👉 বরাদ্দ হয়েছিল ৩৯ লক্ষ টাকা, এখনও শুরু হয়নি রাস্তার কাজ
📅 তারিখ: ১১ জুলাই, ২০২৫
✍️ প্রতিবেদন: বাবন দাস | সূত্র: DCN DESK
🔴 সুতির পারাইপুরে ফের রূঢ় বাস্তব—রাস্তা নয়, খাটিয়াই ভরসা অন্তঃসত্ত্বার!
বর্ষার কাদায় একদিকে গাড়ি চলা অসম্ভব, অন্যদিকে চরম যন্ত্রণায় ছটফট করা গর্ভবতী। বাধ্য হয়ে খাটিয়ায় করে গ্রামবাসীরা নিয়ে চললেন হাসপাতালে। এমনই করুণ চিত্র উঠে এল মুর্শিদাবাদের সুতির ১ নম্বর ব্লকের হারুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পারাইপুর থেকে।
📌 কি ঘটেছিল?
বৃহস্পতিবার সকালে প্রসব যন্ত্রণা উঠতেই পরিবার তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কাঁচা রাস্তা রীতিমতো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষায় রাস্তা পুরোপুরি কাদায় ঢেকে যায়। গাড়ি তো দূর, হেঁটে চলাও দুঃসাধ্য। শেষমেশ খাটিয়াতেই চাপিয়ে দীর্ঘ রাস্তা অতিক্রম করে যাত্রা শুরু হয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্দেশে।
💰 কোথায় গেল ৩৯ লক্ষ টাকার পথশ্রী প্রকল্প?
সূত্র বলছে, ২০২৪ সালে এই রাস্তাটি নির্মাণের বরাত দেওয়া হয় একটি বেসরকারি সংস্থাকে। বরাদ্দ হয় প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকা। অভিযোগ, দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এক মিটার রাস্তাও তৈরি হয়নি।
📄 ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হলেও কাজের নামগন্ধ নেই বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
🧍♂️ কী বলছেন স্থানীয়রা?
“শুধু এই গর্ভবতী মহিলা নন, হৃদরোগী থেকে বাচ্চা—সবাই ভুগছে। কাদা জমে গেলে আমরা গ্রামে কার্যত আটকে যাই,” বললেন গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা সলিম শেখ।
🔁 পুনরাবৃত্তি ঘটনা, কিন্তু শিক্ষা নেই
এটি নতুন কিছু নয়। চলতি বছরের মে মাসেই একই ঘটনা ঘটেছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের ঝোপগেরিয়া এলাকায়। সেখানে গাড়ি ফেঁসে গিয়ে রাস্তাতেই সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা।
📢 প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সামনে প্রশ্ন—প্রকল্প থাকলেও বাস্তবায়ন কোথায়? রাস্তার কাজ না হলে বারবার এই দুর্ভোগ চলতেই থাকবে। বিডিও অফিস, জেলা প্রশাসন, পঞ্চায়েত কেউ কি এই ঘটনায় দায় নিচ্ছে
নাগরিক জীবনের মৌলিক অধিকার নিরাপদ যাতায়াত। আর সেই অধিকার থেকে একাধিক পরিবার বঞ্চিত হয়ে পড়ছে প্রশাসনিক উদাসীনতায়। উন্নয়নের বুলি আর প্রকৃত বাস্তবের এই ফারাক যতদিন থাকবে, ততদিন গর্ভবতী মা হোক বা রোগী, রাস্তার ওপরেই যন্ত্রণা বয়ে চলবে তাঁদের।

